জিয়া-খালেদার ছবিযুক্ত ব্যানার টেনে ছিঁড়লো ক্ষুব্ধ বিএনপি নেতা (ভিডিও)

0
495
বিএনপি নেতা

২৭শে এপ্রিল বুধবার বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ধানিসাফা ইউনিয়নে ডিগ্রী কলেজ সংলগ্ন নাসির খানের বাড়িতে দোয়া ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন ধানীসাফা ইউনিয়ন ছাত্রদল। সেখানে মঠবাড়িয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যাযের নেতাদের দাওয়াত দেয়া হয়। তারা উপস্থিত হলে যথারীতি ইফতারের আগে আলোচনা অনুষ্ঠান শুরু হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই ব্যানারে নাম ও ছবি না থাকায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন দুলাল ক্ষিপ্ত হয়ে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবিযুক্ত ব্যানার নিজেই টেনে ছিঁড়ে মাটি ফেলে দেন। এ সময় তার সাথে থাকা নেতা-কর্মীরা অকথ্য ভাষায় আয়োজক ইউনিয়ন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের গালিগালাজ করতে থাকেন।

বিএনপি নেতা দুলালকে এ সময় বলতে শোনা যায়- তারেকের মত বাচ্চা ছেলের ছবি থাকে ব্যানারে, আমি প্রধান অতিথি, আমার নাম-ছবি কিছু নাই ব্যানারে, তোমরা শা* পোলারা এটা কী ব্যানার বানাইছো… ** ইত্যাদি (অপ্রকাশযোগ্য)।

একপর্যায়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন দুলাল ও পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি কে এম হুমায়ুন কবির এবং তাদের অনুসারীরা অনুষ্ঠান বয়কট করে চলে যান।

পরে অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির দায়িত্ব পালন করেন বিএনপি নেতা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম শরিফ। এতে ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা বেলাল খান রুবেল, মোহাম্মদ তো্হা হাওলাদারসহ বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে, মঠবাড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ব্যানারে অন্য কোনো নেতার নাম থাকলে তিনি রাগ করতে পারতেন কিন্তু যেহেতু কোনো নেতার নাম নেই এবং খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য ইফতার ও দোয়া মাহফিল, সেক্ষেত্রে তার নাম থাকুক বা না থাকুক তারেক রহমানের ছবিযুক্ত ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অত্যন্ত অন্যায় কাজ করেছেন। এটা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের মত ঘটনা। জেলা বিএনপি ও কেন্দ্রীয় কমিটি বিষয়টি নজরে নিয়ে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছে।

মঠবাড়িয়া পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি কে এম হুমায়ুন কবির বলেন, দাওয়াত দিয়ে ব্যানারে নাম না দেওয়ায় অনুষ্ঠানে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, বিষয়টি একান্তই দলীয় বিষয়।

বিষয়টি জানতে মঠবাড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন দুলাল-এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করতে চাইলে সংযোগ পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে মঠবাড়িয়া উপজেলা যুবদল নেতা আহম্মেদ সোহেল (মামুন মৃধা) বলেন, যদি কেউ সত্যিকার অর্থে জিয়া পরিবার ও বিএনপিকে ভালবাসে তবে সে খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তি কামনায় ইফতার ও দোয়া মাহফিলে নিজের নাম ব্যানারে না থাকলেও এমন কাণ্ড ঘটাতে পারেন না, কোনো সুস্থ ব্যাক্তির পক্ষে এমন ঘৃণিত কাজ করা সম্ভব নয়। আমি তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা কমিটি ও কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে জোড়ালো অনুরোধ জানাচ্ছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here